Ads:

  • সর্বশেষ

    বান্দরবানে পর্যটনের চাপ, বাড়ছে প্লাস্টিক দূষণ। - বাংলাদেশ দর্পণ

    বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা।

    পর্যটকদের পদচারণায় মুখর বান্দরবানে বাড়ছে প্লাস্টিক বর্জ্য। ফলে পরিবেশ হুমকির মুখে জেলার শৈল প্রভাত, নাফাখুম, রেমাক্রী, নীলগিরি ও পাহাড়ের পাদদেশে জমছে পানি বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিনসহ নানা রকম প্লাস্টিক দ্রব্য।এ দূষণ পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য ও নদী–ঝিরির জন্য মারাত্মক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা 



    স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটকরা প্রকৃতির সৌন্দর্য কে উপভোগ করতে এসে প্লাস্টিকসহ একবার ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ফেলে চলে যান, কিন্তু সেগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকে না। অনেক সময় নদী ও ঝর্ণার পানিতে এসব বর্জ্য গিয়ে পড়ায় জলজপ্রাণীর মৃত্যু ও পানি দূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।


    বান্দরবান সদর ও থানচি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিক ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকলেও কার্যত এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। সদর বাজার, রুমা ও থানচির দোকানগুলোতে প্রকাশ্যেই পলিথিন ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে কয়েকটি দোকানে জরিমানা ও প্লাস্টিক জব্দ করা হয় তবুও যেন আইন কে কে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে নিয়মিত পলিথিন ব্যাবহার করছেন দোকানদার রা।


    বান্দরবান পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৪০ টন বর্জ্য তৈরি হয় শহরজুড়ে। এর মধ্যে বড় একটি অংশই প্লাস্টিক ও পলিথিন জাতীয়। ডাস্টবিনের অভাব এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে সেগুলো রাস্তার পাশে কিংবা পর্যটন এলাকায় ছড়িয়ে থাকে।


    এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রীনী বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, তবে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”


    পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন বসানো, সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো এবং বিকল্প প্যাকেজিং ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে।

    পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের দাবি, পাহাড় ও প্রকৃতিকে ভালোবাসলে তার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণও দেখাতে হবে—না হলে পর্যটনের যে প্রকৃতি, সেটাই হারিয়ে যাবে মানুষের অসচেতনতার নিচে।

    No comments

    ADS :

    Post Bottom Ad

    ad728